প্রকাশিত: ১২/০৮/২০১৬ ৯:৪৮ পিএম

মাহাবুবুর রহমান :
কক্সবাজারে অবস্থানরত ব্যাচেলরদের দূর্ভোগের যেন শেষ নেই। কেউ তাদের গ্রহন করতে চাইছেনা। বিশেষ করে বাসা ভাড়া দিতে চাইছেনা কেউ। ব্যাংক, স্কুল, বীমা বা বিভিন্ন্ প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত ব্যাচেলরদের বাড়িভাড়া দিতে রাজি হলেও সাথে অনেক কাগজপত্র আবার ভাড়া অনেক ক্ষেত্রে ৩ গুন দিতে হচ্ছে। আর ছাত্র হলে কেউ ভাড়া দিতেও রাজি হচ্ছে না। এতে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে ব্যাচেলর শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা। ইতি মধ্যে অনেকে বাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে দিয়ে গ্রাম থেকে বহু কষ্টে আসা যাওয়া করে লেখাপড়া করছে। এই পরিস্থিতিতে একটি গ্রহনযোগ্য সামাধান খোঁজে বের করার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
কক্সবাজারের একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরিরত জোবায়ের আলম বলেন, আমাদের গ্রামের বাড়ি চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী গ্রামে। আমি নিজের চেষ্টায় একটি চাকরি যোগাড় করেছি, যা বেতন পাই তার বেশিরভাগই বাড়িতে পাঠিয়ে দিই। আমি শহরের তারাবনিয়ার ছড়ার একটি বাড়িতে ব্যাচেলর হিসাবে ভাড়া থাকতাম। আমরা সেখানে আরো ৫ জন একসাথে থাকতাম। কিন্তু সম্প্রতি বাড়ির মালিক আমাদের বাধ্য করেছে বাড়ি ছেড়ে দিতে। এর পর অনেক চেষ্টা করেও একটি ব্যাচেলর বাসা ভাড়া পায়নি। বর্তমানে খুবই বিপর্যস্ত অবস্থায় আছি। এখন এসএম পাড়ার এক বন্ধুর বাড়িতে কোন প্রকার আছি তাও কত দিন থাকতে পারবো জানিনা। স্কুল শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, আমি কক্সবাজারে ব্যাচেলর হিসাবে প্রথমে টেকপাড়া, পরে কালুর দোকান, সর্বশেষ তারাবনিয়ার ছড়া ছিলাম, ছাত্র জীবন থেকে আমি ব্যাচেলর হিসাবে থেকে এখন একটি স্কুলে চাকরি করি। সম্প্রতি দেশের উদ্ভুত আইন শৃংখলা পরিস্থিতির কারনে বাড়ির মালিক আমাদের আর রাখতে চাইছেন না। আমরা অনেক বুঝানোর পরেও তিনি আমাদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছে এখন একটি হোটেলের রুম ভাড়া নিয়ে আছি। কক্সবাজার সরকারি কলেজের অনার্স পড়–য়া ছাত্র আসিফ সাইফুল কবির বলেন, আমরা ৬ বন্ধু মিলে মোহাজের পাড়ায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতাম এখন বাড়ির মালিক জোর করে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছে এতে আমাদের লেখাপড়াতো দূরের কথা রাতের ঘুমও ভাল মত হচ্ছে না। পরে শহরের প্রতিটি এলাকায় খোঁজেও একটি বাড়ি ভাড়া পায়নি। এর মধ্যে তারাবনিয়ার ছড়ায় একটি বাড়ি পেলেও তারা ৬ হাজার টাকার ফ্ল্যাট ১২ হাজার টাকা চাইছে। আমরা খুবই দরিদ্র পরিবারের ছেলে কষ্ট করে লেখাপড়া করছি আমরা যদি শহরে থাকতে না পারি তাহলে যাব কোথায়, লেখাপড়া করবো কিভাবে ? শত চেষ্টা করেও বাড়ি ভাড়া না পেয়ে এখন ঈদগাহ থেকে আসা যাওয়া করে লেখাপড়া করি।
এ ব্যাপারে তার অভিভাবক ঈদগাও ইসলামপুর ইউনিয়নের বটতলী গ্রামের মোঃ আলম বলেন, আমার ছেলে এত দিন কক্সবাজার শহরে থেকে টিউশনি করে কোন মতে তার নিজের খরচ যোগাড় করে নিজেই লেখাপড়া করছিল। কিন্তু এখন বাড়িতে আসা যাওয়া করে লেখাপড়া করছে তাই অর্থনৈতিকভাবে সমস্যায় পড়েছি। মনে হয় ছেলেটাকে আর লেখাপড়া করানো যাবেনা। তিনি জানান আমি নিজেও অনেক চেষ্টা করেছি তবুও ব্যাচেলর ছাত্রকে কেউ বাড়ি ভাড়া দিতে রাজি হয় নি।
এদিকে শুধু ছেলেদের নয় মেয়ে ব্যাচেলরদের বাড়ি ভাড়া দিতে আগ্রহী হচ্ছে না বাড়ির মালিকরা।
এ ব্যাপারে কক্সবাজারের একটি বেসরকারি প্রাইভেট হাসপাতালে চাকরিরত ২ জন নার্স বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে ঘোনারপাড়ায় ভাড়া থাকতাম। এরমধ্যে চাকরি এবং লেখাপড়া দুটিই চালিয়ে যায়। কিন্তু বাড়ির মালিক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে চলতি মাসে বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। আমরা মেয়ে মানুষ একটি ভাল পরিবেশসহ বাড়ি কোথায় পায়, ইতিমধ্যে অনেক চেষ্টা করেও একটি বাড়ি যোগাড় করতে পারি নি। কেউ ব্যাচেলর মেয়েদের বাড়ি ভাড়া দিতে চায় না।
এ ব্যাপারে তারাবনিয়ারছড়া এলাকার বাড়ির মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, আমি আগে বাড়ি ভাড়া দিতাম এখন দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার করনে ভাড়া দিতে চাইছি না। তাছাড়া কিছুদিন আগে রাতে ব্যাচেলর ফ্ল্যাটে পুলিশ এসে তল্লাসী চালিয়েছে সে সময় ২ জনকে থানায়ও নিয়ে গিয়েছিল। পরে অবশ্য তাদের ছেড়েও দেওয়া হয়। আমি মূলত ভয় পেয়েছি আর আমার ছেলেরা বিদেশ থাকে তারাও বারণ করেছে ব্যাচেলর বাড়ি ভাড়া না দিতে তাই দিতে পারছি না।
টেকপাড়া এলাকার এক আইনজীবী বলেন আমরা আগে ব্যাচেলর বাসাভাড়া দিতাম কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আর দিচ্ছি না। এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ছেলে মেয়েদের ভাল শিক্ষা বা কর্মজীবন ধ্বংস হয়ে যাবে। এর একটি সুষ্ঠু সমাধান হওয়া দরকার। প্রয়োজন হলে ব্যাচেলর বাড়ি ভাড়া দিতে বাড়ির মালিকদের অভয় দিয়ে তাদের সঠিক তথ্য যদি থানায় জমা রাখে তাহলেও হয়। আর তাদের যেন অযথা হয়রানী করা না হয় সে বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি থাকা দরকার।

পাঠকের মতামত

 

দুর্গম পাহাড়ি পথে বাংলাদেশে আসছেন রোহিঙ্গারা

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত পথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি ...

ইষ্ট বেকারের জ্যাম-ফিল্ড ব্রেডে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিক্রি বন্ধের নির্দেশ

মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানের তিন ধরনের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের ...

আর্জেন্টিনার জয়োল্লাসের ভিডিও করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জয়ে আনন্দ মিছিলের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে নেত্রকোনায় একটি ভবনের ছাদে ...